- বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড়ধস
- মাদকসেবীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার সেই বৃদ্ধার মৃত্যু
- স্বাস্থ্যসেবা বাণিজ্য নয়, মানবাধিকার: জুবাইদা রহমান
- টানা বর্ষণে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ
- চার বছর ধরে মসজিদের মক্তবে চলছে পাঠদান
- ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ’, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- তীব্র দাবদাহে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ স্থগিতের দাবি
- জুলাই যোদ্ধাকে থানায় আট ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ
- পলাশবাড়ীতে সম্প্রীতি সমাবেশ
- পেট্রোল ছিটিয়ে আগুনের ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু
- গাজীপুরে পুলিশ বক্সে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা, আটক ১
- অবৈধভাবে দেশে ফেরার চেষ্টায় বিএসএফের গুলিতে আহত দুই শ্রমিক
- মিস ইউনিভার্সে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা ফ্রান্সের
- সুন্দরবনে অপহরনের শিকার ২১ জেলে উদ্ধার
- জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না জনগণ: মির্জা ফখরুল
- কুরবানির মাংস সংরক্ষণে যা জানা জরুরি
- এই মঞ্চে যারা আসেননি তারা দলে ডাকাতির চেষ্টা করছেন: নিলুফার চৌধুরী
- দল বদল করছি না,পল্টি দেওয়ার অভ্যাস আমার নেই: সাকিব
- বিদেশ সফরে অতিরিক্ত সচিবদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিল সরকার
- ইরান লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- ডেমরার কালি কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস
১১ কোটি টাকার এফএসটিপি প্রকল্পে অচলাবস্থা
যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে বন্ধ জৈবসার উৎপাদন, প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত নীলফামারী পৌরবাসী।
পরিবেশ দূষণ কমানো, নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য থেকে জৈবসার উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নীলফামারী পৌরসভার ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এফএসটিপি) উদ্বোধনের কয়েক বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ কারিগরি জনবল এবং বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থার অভাবে কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৮৯ একর জমির ওপর এফএসটিপি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও সেপটিক ট্যাংক থেকে বিশেষায়িত ভ্যাকুয়াম ট্যাংকারের মাধ্যমে মানববর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধন এবং তা জৈবসারে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কমার কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে সংগৃহীত বর্জ্য প্ল্যান্টে এনে স্তূপ করে রাখা হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে শোধন বা পুনঃব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জৈবসার উৎপাদনের লক্ষ্যও বাস্তবায়িত হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটির প্রধান সমস্যা হলো পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথক করার আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব। মিশ্র বর্জ্যের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদান থাকায় হাতে পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পুরো শোধন প্রক্রিয়াই কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। এতে কিছু এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি পরিচালিত হলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পৌরসভার আয়ও বাড়তে পারত।
স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “এখানে যে বর্জ্য আনা হয়, তা শোধনের কথা থাকলেও বাস্তবে হচ্ছে না। দিনের পর দিন জমে থেকে এটি এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।”
আরেক বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, “বর্জ্য থেকে জৈবসার তৈরির কথা শুনেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সার উৎপাদন হয়নি। বরং দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
নীলফামারী পৌরসভার কনজারভেন্সি কর্মকর্তা আব্বাস আলী বলেন, “ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পর থেকেই সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শুরুতে কয়েকজন নারী শ্রমিক হাতে প্লাস্টিক আলাদা করতেন। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের মিশ্র বর্জ্য থেকে হাতে প্লাস্টিক পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। এ কাজের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।”
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক রেজা বলেন, “পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা গেলে পচনশীল অংশ থেকে উন্নতমানের জৈবসার উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষিতে জৈবসারের ব্যবহার বাড়বে এবং পৌরসভার জন্য নতুন রাজস্ব আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
পৌরসভার প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন, “বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক মেশিনারিজের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সংগৃহীত বর্জ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদান হওয়ায় সেগুলো পৃথক করতে অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রযুক্তি প্রয়োজন।”
পরিবেশবিদদের মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই প্ল্যান্ট শুধু মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেই আধুনিক করবে না, বরং জৈবসার উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। অন্যথায় কোটি কোটি টাকার এ বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।