বিস্ফোরক সংকটে টানা ১ মাস ২২ দিন (৪৪ দিন) বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে পুনরায় পাথর উৎপাদন শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে তিন শিফটে পুরোদমে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম চালু হয়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরকারের প্রায় ৭৮ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে খনি সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ মে খনিতে পাথর উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরকের মজুত শেষ হয়ে গেলে ১৯ মে থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) খনিতে কর্মরত প্রায় ৭০০ শ্রমিক-কর্মচারীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠায়।
খনি সূত্র জানায়, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেই হিসাবে ৪৪ দিনে সরকারের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।
বর্তমানে খনির ১২টি ইয়ার্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাথর মজুত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নদী শাসনের জন্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টন বোল্ডার এবং রেলপথে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টন ব্লাস্ট পাথর রয়েছে। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব পাথর বিক্রিতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম রিটু বলেন, বিস্ফোরকের অভাবে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এখন উৎপাদন শুরু হলেও পাথর বিক্রি কম থাকায় আর্থিক চাপ রয়ে গেছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন জানান, থাইল্যান্ড থেকে ৮৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে পৌঁছানোর পর শনিবার থেকে উৎপাদন পুনরায় চালু হয়েছে। এ পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে প্রায় আড়াই মাস উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি আরও ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরক আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের একমাত্র পাথর খনির উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দেশীয় পাথরের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি খনির কার্যক্রমও গতিশীল হবে।