প্রতিদিন বিক্রি ৩-৪ লাখ টাকার

সৈয়দপুরে জমজমাট লটকনের বাজার

সৈয়দপুরে জমজমাট লটকনের বাজার

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে উঠেছে মৌসুমি ফল লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জমে ওঠা এ বাজারে গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার লটকন বেচাকেনা হচ্ছে।

সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড়ের পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন সকালেই বসে এ বাজার। স্থানীয় বাগানের পাশাপাশি রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, লালমনিরহাট, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, খানসামা, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী এবং নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকা থেকে লটকন এনে এখানে বিক্রি করা হয়।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ লটকন ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরে এসব লটকন দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে, যেখানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও আড়তদার—সবাই লাভবান হচ্ছেন।

লটকন বাংলাদেশের জনপ্রিয় দেশীয় ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea sapida। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান, ডুবি, বুবি ও হাড়ফাটা নামেও পরিচিত। ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদাভ রঙ ধারণ করে। এর রসালো শাঁস হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

পাইকার আতিয়ার রহমান বলেন, “রংপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লটকন সংগ্রহ করে সৈয়দপুরে এনে বিক্রি করি। বাজারে ভালো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে।”

খুচরা বিক্রেতা রাসেল বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে কিনে প্রতি কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা লাভ হচ্ছে। মৌসুমজুড়ে ভালো ব্যবসার আশা করছি।”

সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চড়কপাড়া গ্রামের লটকন চাষি মাহবুবুর রহমান প্রিন্স বলেন, “প্রথমে শখ করে কয়েকটি গাছ লাগিয়েছিলাম। পরে চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বাগান করেছি। এখন পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”

চিকিৎসকদের মতে, লটকন ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের ভালো উৎস। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, রক্তস্বল্পতা ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পাশাপাশি কাশি, মৌসুমি সংক্রমণ ও ত্বকের যত্নেও এ ফল উপকারী।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, “লটকনের চাহিদা ও আবাদ দিন দিন বাড়ছে। এটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি দেশীয় ফল। বর্তমান বাজারদরও চাষিদের জন্য লাভজনক হওয়ায় তারা লটকন চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।”

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর