তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ মেলা। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিভিত্তিক পরিকল্পনা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে মুখর হয়ে ওঠে মেলার প্রাঙ্গণ।
রোববার (১৪ জুন) সকালে শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)’-এর অর্থায়নে এবং জেলা শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের মূল শক্তি আমাদের নতুন প্রজন্ম। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পগুলো প্রমাণ করে তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ থেকেই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্যোক্তারা তৈরি হবে।”
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ আসিফ রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসুসহ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা।
বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চা তরুণদের সৃজনশীল ও কুসংস্কারমুক্ত করে। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব স্মার্ট সিটি, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিকাজে ড্রোন প্রযুক্তি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা সমাধানভিত্তিক স্টার্টআপ ও ই-কমার্স উদ্যোগও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
জেলার সাতটি উপজেলা থেকে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। জেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উদ্ভাবক ও প্রকল্পগুলোর মধ্যে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাই আগামী দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রধান ভিত্তি।”