শিরোনাম
ঝুলে ১৩ স্কুল ভবন

৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে প্রকৌশলী বদলি

৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে প্রকৌশলী বদলি

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও সাতক্ষীরা জেলায় এখনো ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রয়েছে। একই সময়ে কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধের অভিযোগে তদন্তাধীন আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় জেলায় মোট ১৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১৭টির কাজ শেষ হলেও বাকি ১৩টির নির্মাণকাজ এখনো ঝুলে রয়েছে।

অসমাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি, দয়ারঘাট, বুড়িয়া ও গোয়ালডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; তালা উপজেলার শিরাশুনি, ওমরপুর ও উত্তর শাহজাদপুর; শ্যামনগর উপজেলার বাইনতলা, গাবুরা, গাবুরা খোলপেটুয়া ও পশ্চিম কৈখালী এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ও বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাকি কাজ কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।

এর আগে আশাশুনি উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নামমাত্র কাজ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর খুলনা বিভাগীয় এলজিইডির তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত চালায়।

অভিযোগের পর অনিন্দ্য দেব সরকারকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সাময়িকভাবে সেই আদেশ স্থগিত করান। পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে শাস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিন্দ্য দেব সরকার। তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সব নির্মাণকাজ প্রাক্কলন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বদলি স্থগিতের আবেদনে ভুল তথ্য থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি টাইপিংজনিত অনিচ্ছাকৃত ভুল। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব নথি ও প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্মাণকাজ যথাযথভাবে বুঝে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম. তারিকুল হাসান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর