মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি>
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চন্দ্রখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আড়াই বছরেও শেষ হয়নি। দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯০৪ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ পায় খাগড়াছড়িভিত্তিক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর বড় অংশের নির্মাণকাজ এখনো বাকি। নির্মাণসামগ্রী খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে এবং কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মৃধা বলেন, আগের সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে সাটুরিয়া ইউনাইটেড মডেল স্কুলের পরিচালক মোহাম্মদ আবু হানিফ জানান, বিকল্প সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত আড়াই বছরে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয়ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং কেন বেড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে। তবে বর্তমান অগ্রগতি দেখে স্থানীয়রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।