জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে এটিকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান আনুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যবিশিষ্ট এক্সকম ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৫৯ সালে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটি গঠনের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যুরোর কোনো নেতৃত্বের দায়িত্ব পেল।
এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের নাম প্রস্তাব করা হয়। পরে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া—অন্য দুটি আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিরা এ মনোনয়নের প্রতি সমর্থন জানায়। এরপর নির্বাহী কমিটির ১১০ সদস্যরাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের মনোনয়ন অনুমোদন করে।
এক বার্তায় জানানো হয়, এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান কর্মজীবনে রোম, কলকাতা ও জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কানাডায় হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন।
রোহিঙ্গা সংকটসহ শরণার্থী ইস্যুতে ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ।
বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, মানবিক সংকট ও তহবিল ঘাটতির মধ্যে এ দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।