শিরোনাম
সৈয়দপুরে ভেজাল কীটনাশক তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান
সৈয়দপুরে ভেজাল কীটনাশক তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ভেজাল কীটনাশক উৎপাদনের একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল কৃষি উপকরণ জব্দ ও ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ফরিজ উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. সাজিদাকে ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুতের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন এবং সৈয়দপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৩৫০ কেজি প্যাকেটজাত এবং ৪০০ কেজি খোলা অবস্থায় থাকা ভেজাল কীটনাশকসহ মোট ৭৫০ কেজি ভেজাল কৃষি উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন ধরে এসব ভেজাল কৃষি উপকরণ বাজারজাত করার চেষ্টা চলছিল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, ভেজাল কীটনাশকের ব্যবহার শুধু ফসলের উৎপাদনই ব্যাহত করে না, এটি মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে এবং পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল ও নিম্নমানের জৈব সার এবং মেয়াদ ও তথ্যবিহীন কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল জৈব সার উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন। একই সঙ্গে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।  

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ভেজাল সার ও কীটনাশকের ব্যবসা চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক কীটনাশকের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর কিংবা কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ নেই। দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, বোরন, জিপসাম, কার্বোফুরান ও ডায়াজিননসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে শুধু “মেইড ইন ঢাকা”, “চীন” বা “ইন্ডিয়া” লেখা থাকলেও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী রং মিশ্রিত বালু, লাল মাটি, ছাই ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে জৈব সারের নামে ভেজাল পণ্য তৈরি করছেন। পরে সেগুলো আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সৈয়দপুরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন বলেন, প্রকৃত জৈব সার তৈরিতে গোবর, হাড়ের গুঁড়া, ছাই, ডিমের খোসা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটার ব্যবহার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর তা বাজারজাত করা যায়। কিন্তু অনেক উৎপাদক জৈব সারের নামে কেমিক্যাল মিশ্রিত অজৈব সার তৈরি করছেন।

বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভেজাল সার ও নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারে অনেক কৃষকের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিধুভূষণ রায় বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।