রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে মারধরের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে ওসি আজাদ রহমান, কনস্টেবল বাসুদেবসহ পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মাসুদ রানাকেও প্রত্যাহার করা হয়।
মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব রংপুর সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিবও।
রাকিবের অভিযোগ, থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান এক পুলিশ সদস্য উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলকে মারধর করছেন। তিনি এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের এক নেতাকে ফোনে বিষয়টি জানাতে গেলে ওসি আজাদ রহমান, এক এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ঘটনার পর রাকিবুল ইসলামকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মাহফুজুর রহমান এবং কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুকুমার রায়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।