সুন্দরবনে দস্যু দমন অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জাম ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীটির একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের চলমান ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে বুধবার (৩ জুন) বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে এক সদস্যকে আটক করা হয়।
অভিযানে ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি টেলিস্কোপ, একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি ওয়াকিটকি চার্জার, শিংসহ একটি হরিণের মাথা, তিন কার্টন সিগারেট, দুই বস্তা চাল এবং একটি কাঠের নৌকা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মোরেলগঞ্জ উপজেলার পি সি বাড়ইখালি এলাকায় তার বাড়ি থেকে ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত আরও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার (৪৫)। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও আলামতসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।