শিরোনাম
আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের নাম

নৌবাহিনীর ট্যাবলেট ও হুইলচেয়ার কেনায় অনিয়মের অভিযোগ

নৌবাহিনীর ট্যাবলেট ও হুইলচেয়ার কেনায় অনিয়মের অভিযোগ

৩৪২ কোটি টাকার কাজ, টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা এবং বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ট্যাবলেট সরবরাহের অভিযোগ

নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট ও হুইলচেয়ার কেনার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ছোট ভাই ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের নাম আলোচনায় এসেছে।

ডেইলি ওয়াদার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে টেন্ডার প্রতিযোগিতা ছাড়াই প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার কাজ নৌবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩২০ কোটি টাকার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট কেনার প্রক্রিয়ায় নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় বুরাক ব্রেক ও সেলেক্সট্রা নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজা সরদার রাফিদ এস এ হোসেন ও ভাতিজি অনিকা রাইদা লিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুচরা বাজারে ২১ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকায় পাওয়া যায়—এমন ট্যাবলেট সরকারকে ৪৮ হাজার টাকা দরে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। নৌবাহিনীর সঙ্গে সম্পাদিত পৃথক চুক্তির তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একটি ট্যাবলেট সরবরাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ২৬ হাজার টাকা দরে চুক্তি হলেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে সেটি ৪৮ হাজার টাকা দরে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ৬৭ হাজার ট্যাবলেটের এই লেনদেনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মিলিত মুনাফা প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে। তবে এ হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া প্রায় ২৬ হাজার হুইলচেয়ার আমদানিতেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৬৮ শতাংশ হুইলচেয়ারে ত্রুটি পাওয়া গেলেও কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠান এসজিএসের ছাড়পত্র না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। এ প্রক্রিয়াতেও সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তাঁর ভাই, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র, দরপত্রের নথি, মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর