শিরোনাম
চার লাখ টাকার মেরামত বরাদ্দও কাজে লাগেনি; বর্ষায় বই-খাতা ভিজে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

গোলপাতার জরাজীর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান, ভবনহীন পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

গোলপাতার জরাজীর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান, ভবনহীন পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের ১৯০ নম্বর পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলার শিকার। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির নিজস্ব ভবন না থাকায় ২০২২ সাল থেকে একটি জরাজীর্ণ গোলপাতার ঘরে চলছে পাঠদান। এতে শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই গোলপাতার চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বেঞ্চ এবং কাদায় ভরে যায় মেঝে। ফলে অনেক সময় পাঠদান চালিয়ে নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২২ সালে নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। এরপর সাময়িকভাবে একটি গোলপাতার ঘর নির্মাণ করে সেখানে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কয়েক বছর পার হলেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুন জরুরি ভিত্তিতে পাঠদানের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য এলজিআরডির আওতায় চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই বরাদ্দ ফেরত চলে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থার ছবি ও ভিডিওসহ একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে এই ঘরে পাঠদান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।"
সাবেক প্রধান শিক্ষক সেখ মুজিবুর রহমান বলেন, "অনেক চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন আনতে পারিনি। অথচ অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক ভবন থাকলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনও গোলপাতার ঘরে পড়াশোনা করছে।"
সহকারী শিক্ষক এনামুল কবির বলেন, "আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করে যাচ্ছি। কিন্তু এমন অনুপযুক্ত পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।"
শিক্ষার্থী আব্রিতা, মুমিনুল, মরিয়ম ও ফাতেমা জানায়, বৃষ্টি হলেই বই-খাতা ভিজে যায় এবং শ্রেণিকক্ষ কাদায় ভরে যায়। তাদের প্রশ্ন, "আমরা কি সুন্দর একটি স্কুলে পড়তে পারব না?"
অভিভাবকদের অভিযোগ, ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগেও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলপাতার ঘরে পাঠদান চলা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা খাতে বিপুল বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও এই বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় তারা হতাশ।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ এবং অন্তর্বর্তীকালীন একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর