লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত মা ও তিন বোনকে শেষ বিদায় জানিয়ে তাঁদের লাশ নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য, ১৬ বছর বয়সী কিশোর জুনায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৬ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে রায়পুরে আনা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় পৌর শহরের ধানহাটা এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে জুনায়েদ স্বজনদের সঙ্গে মা ও তিন বোনের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানের উদ্দেশে নিয়ে যান, যেখানে তাঁদের দাফন করা হবে।
ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অরুপ রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের মাথা, বুক ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অন্যদের অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে নিহত হন শাহীনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা (১০)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা রায়পুরে বসবাস করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন মারা যাওয়ার পর শাহীনুর বেগম একাই চার সন্তানকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে জুনায়েদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি একজনই ঘটিয়েছেন। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল তদন্ত করছে।