কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পদুয়ার বাজারে বাস থেকে নেমে একটি দোকানে নিজের আইফোন প্রায় ১৫ মিনিট চার্জ দেয় সে। এরপর রাতের আঁধারে কোথায় গিয়েছিল, কার সঙ্গে অটোরিকশায় উঠেছিল এবং কীভাবে জগতপুরের ধানখেতে পৌঁছেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে কুমিল্লায় আনা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা এবং অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন। এরপর আশপাশের খাবার ও স্টেশনারি দোকানের সামনে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। রাত ১২টার দিকে একটি দোকানির সঙ্গে কথা বলার সময় মুঠোফোনে কিছু একটা দেখায় সে। পরে পাশের রায়া ফ্যাশন নামের দোকানে গিয়ে মালিক রাসেলের কাছে আইফোন চার্জ দেওয়ার জন্য প্রায় ১৫ মিনিট সময় নেয়।
এরপর হোটেল এলাকায় তাকে কয়েকবার যাওয়া-আসা করতে দেখা যায়। রাত সোয়া ১২টার দিকে সে ওই এলাকা ছেড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাজমিনকে বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বিভিন্ন এলাকার সরু ও নির্জন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
এর আগে ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে একটি অটোরিকশাও পড়ে ছিল। পরে স্বজনেরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে। কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে নূরজাহান হোটেলের সামনে শেষবারের মতো দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায় সে। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
তাজমিনের কাছে আইফোন থাকা নিয়ে সামাজিকভাবে নানা দাবি সামনে এলেও সেটিই হত্যার কারণ কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার আগে ও পরে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং এতে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।