বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প-২ এর গ্রাহকদের টাকা অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়েছে কিনা এবং প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, প্লটের ২৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করলেও গত তিন বছরেও তারা প্লট বুঝে পাননি। তাদের দাবি, উচ্চ আদালতের কোনো কার্যকর নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।
বিসিসির সম্পত্তি শাখা সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প-২ এ মোট ২৪০টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে ডি ক্যাটাগরির কিছু প্লট হস্তান্তর করা হলেও বাকি প্লটগুলো আদালতে দায়ের হওয়া একটি রিটের কারণে আটকে যায়। পরে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি।
প্লটগ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। তবে কারও অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে প্রকৃত গ্রাহকদের দ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্লটগ্রহীতা ওয়াসিম বলেন, লটারির মাধ্যমে প্লট পেয়েও এখনও বুঝে পাননি। তিনি জানান, কিস্তির বাকি অর্থ পরিশোধ হলে বিসিসিও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে।
আরেক গ্রাহক মুজিব মেহেদী বলেন, ঋণ নিয়ে প্লটের টাকা জমা দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তির অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করা উচিত নয়।
বিসিসির সম্পত্তি শাখার প্রধান শাকিল আহমেদ বলেন, গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকার নথি সংরক্ষিত রয়েছে। অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হয়েছে কিনা, তা হিসাব শাখা যাচাই করবে।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নিরীহ গ্রাহকদের হয়রানি করা হবে না। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।