জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে ‘বিশেষ উপকূলীয় তহবিল’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৩ মে) সাতক্ষীরা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম। সংগঠনটির সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস এবং বেড়িবাঁধ ধসে পড়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দুই দশকে সিডর, আইলা, আম্পান ও রেমালের মতো একাধিক ঘূর্ণিঝড়ে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালের ঘূর্ণিঝড় রেমালেই প্রায় ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা জানান, বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জোয়ারেও অনেক এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোনা পানি ঢুকে পড়ছে। এতে সুপেয় পানির সংকট, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ নানা জলবাহিত রোগ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দের পরিমাণ টাকার অঙ্কে বাড়লেও মোট বাজেটের তুলনায় শতাংশের হিসাবে ধারাবাহিকভাবে কমছে। পরিবেশবাদীদের মতে, বিদ্যমান বরাদ্দের বড় অংশই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্যয়ে চলে যায়। ফলে উপকূল রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত হচ্ছে না।
বক্তারা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করছে এবং কোটি মানুষের জীবিকা এ বনের ওপর নির্ভরশীল।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য পৃথক তহবিল গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।