শিরোনাম
পলাশে জিডির পরও উপসচিবের বাড়িতে হামলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
পলাশে জিডির পরও উপসচিবের বাড়িতে হামলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

নরসিংদীর পলাশে  জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালে কর্মরত এক উপসচিবের বাড়িতে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

মোবাইলে হুমকি পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই উপসচিব পূর্বে থানায় লিখিতভাবে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেন। কিন্তু জিডির পরও হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, বিষয়টি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

তবে জিডির পরও হামলা ঠেকাতে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি তার কাছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, জিডি করার পরও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদীর রাজনীতিতে মোকাররম হোসেন ভুঁইয়ার অপূরণীয় শূন্যতা
নরসিংদীর রাজনীতিতে মোকাররম হোসেন ভুঁইয়ার অপূরণীয় শূন্যতা

নরসিংদী জেলা বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাররম হোসেন ভুইয়ার অকাল প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং পুরো নরসিংদীবাসী হারালো এক সম্ভাবনাময়, প্রাণবন্ত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে।
রাজনীতির মাঠে মোকাররম হোসেন ভুঁইয়া ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। হাসিমাখা মুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি ছিলেন ভদ্র, সৌজন্যপরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ।
দলের দুঃসময়ে তিনি ছিলেন সাহসী ও সক্রিয় সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।


শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভারতে চিকিৎসা নিতে হলেও সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবারও রাজপথে সক্রিয় হন তিনি। অসুস্থতাকে জয় করে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারই প্রমাণ বহন করে। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে তাঁকে বীরের মতো নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খাইরুল কবির খোকনের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান মোকাররম হোসেন ভুঁইয়া। দিন-রাত পরিশ্রম করে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তাঁর মৃত্যুতে নরসিংদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। একজন সংগ্রামী, মানবিক ও কর্মীবান্ধব নেতাকে হারিয়ে শোকাহত পুরো জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মোকাররম হোসেন ভুইয়ার রাজনৈতিক আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে নরসিংদীবাসী।

নাহিদ-রিফাতের নেতৃত্বে কেমন হবে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল?
নাহিদ-রিফাতের নেতৃত্বে কেমন হবে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল?

নবগঠিত নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহদী হাছান রিফাতের নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নতুন নেতৃত্ব আসায় সংগঠনে গতি ফিরবে বলেই মনে করছেন তৃণমূলের অনেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ–রিফাতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করা। সাম্প্রতিক শোডাউনে বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতি নতুন কমিটির প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যদি নতুন নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ বিভেদ কমিয়ে কর্মসূচিভিত্তিক রাজনীতি চালু করতে পারে, তাহলে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল আবারও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে। তবে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ সামাল দেওয়াও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নতুন কমিটির নেতারা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়— এই নেতৃত্ব কতটা সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে পারে।