নরসিংদী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে তদন্তের আড়ালে নজিরবিহীন ‘লোকদেখানো বদলি’র আদেশ জারি করেছেন সদ্য নিযুক্ত জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। এতে করে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের বিতর্কিত সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে কৌশলী ‘নাটক’ শুরুর অভিযোগ উঠেছে।
বিতর্কিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমকে ঘিরে আন্দোলন, সংবাদ প্রকাশ এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বদলি করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাঁর দুই দফা বদলির আদেশ জারি হলেও রহস্যজনক কারণে তা আবার বাতিল হয়। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে মাহমুদাসহ মূল অভিযুক্তদের স্পর্শ না করে গত ১২ মে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বড় ধরনের রদবদল করা হয়।
অফিস আদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রধান সহকারী ও সার্টিফিকেট সহকারী পর্যায়ের অন্তত ১২ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন শাখা ও উপজেলায় বদলি বা সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—
• মো. কিরনুজ্জামান (প্রশাসনিক কর্মকর্তা): রাজস্ব শাখা থেকে সংস্থাপন শাখায় সংযুক্ত।
• সাইফুল ইসলাম (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা): ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে রায়পুরা উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি।
• ছন্দা (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা): মনোহরদী থেকে শিবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এই বদলি প্রক্রিয়া মূলত লোকদেখানো। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি, ফাইল আটকে রাখা এবং অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। কিন্তু তদন্ত চলমান থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এতে করে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, দুর্নীতির মূল হোতাদের আড়াল করে কেবল নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বদলি করলে প্রশাসনের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে দায় এড়িয়ে গেলে দালাল সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
অফিস আদেশে বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আজ ১৩ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই কঠোরতা শুধু নিম্নপদস্থদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ কি না—তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এতে করে মূল অভিযুক্তরা পার পেয়ে গেলে জেলায় বড় ধরনের জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে।