শিরোনাম

এডিসি মাহমুদা ইস্যুতে বদলি ও আদেশের পালাবদল

এডিসি মাহমুদা ইস্যুতে বদলি ও আদেশের পালাবদল
এডিসি মাহমুদার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেন৷ অভিযোগের পর তাকে ডেকে নিয়ে ৬ মাসের কারাদন্ডের হুমকি দেন মাহমুদা। এর কিছু দিন পরেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আদালতের আদেশ অমান্য, অভিযোগকারীকে ডেকে এনে হুমকি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহমুদা বেগমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে তাকে দুই দফা বদলির আদেশ জারি করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বদলির আদেশ জারির পরও নরসিংদীতে বহাল থাকার চেষ্টা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। 
গত ১৯ এপ্রিল তাকে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও ২৭ এপ্রিল সেই আদেশ বাতিল করে পরিকল্পনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল আবার আদেশ পরিবর্তন করে তাকে নরসিংদীতেই বহাল রাখা হয়।
এদিকে, তারা নানা অনিয়মের প্রতিকার ও বিচার চেয়ে গত ১৯ এপ্রিল শত শত নরনারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের পর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে মানববন্ধন করে। এসময় সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বাসে ভুক্তভোগীরা বাড়ি ফিরে যান। রাতেই তার বদলির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে এরপর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। এমনকি গত ছয় মাসে এককভাবে সরকারের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন বলেও প্রচার করা হয়, যা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও স্থাপনার বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ডিজিএফআই, এনএসআই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসক, নরসিংদী বরাবর পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আব্দুর রউফ গাজী নামে এক আবেদনকারীর স্থাপনার বিল পরিশোধে গড়িমসি করা হয় এবং তাকে একটি বিতর্কিত ব্যবসায়িক চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয় এই এডিসি। এতে রাজি না হওয়ায় বিল আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন হারুনুর রশীদ খান ও শামসুল আলম খান। তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত (এলএ কেইস নং ১৫/২০২১-২০২২) স্থাপনার বিল প্রদানে অনিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া, পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া একটি আবেদন পুনরায় গ্রহণ করে বিল প্রদানে টালবাহানা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

এছাড়াও জামালপুরে এসিল্যান্ড ও নেত্রকোনায় ইউএনও থাকার সময় নানা অনিয়ম ও হুমকির কারণে সংবাদের শিরোনাম হন তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এডিসি মাহমুদা বেগম কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পর আব্দুল বাতেন (৭৫) নামে এক ব্যক্তিকে তার খাসকামরায় ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে ভয়ে এই ভুক্তভোগী মারা যান। 
সামসু উদ্দিন নামেও এক ভুক্তভোগী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন এই এডিসির বিরুদ্ধে। প্রতিকার না পেয়ে ভয়ে এখন আর কেউ মুখ খুলতে চায়না। 
আসলে এই এডিসির খুঁটির জোড় কোথায় এবং আর কত নির্যাতনের শিকার হলে পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীদের মাঝে।

যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর