শিরোনাম
পলাশে জিডির পরও উপসচিবের বাড়িতে হামলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
পলাশে জিডির পরও উপসচিবের বাড়িতে হামলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

নরসিংদীর পলাশে  জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালে কর্মরত এক উপসচিবের বাড়িতে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

মোবাইলে হুমকি পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই উপসচিব পূর্বে থানায় লিখিতভাবে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেন। কিন্তু জিডির পরও হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, বিষয়টি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

তবে জিডির পরও হামলা ঠেকাতে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি তার কাছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, জিডি করার পরও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লেবাননে ড্রোন হামলায় শুভর মৃত্যু, বাড়িতে শোকের মাতম
লেবাননে ড্রোন হামলায় শুভর মৃত্যু, বাড়িতে শোকের মাতম

অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে শেষ সম্বল এক শতক জমির ওপর থাকা বসতভিটা বিক্রি করেছিলেন সুরঞ্জন দাস। আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন বছর আগে ছেলে শুভ দাসকে পাঠান লেবাননে। কিন্তু ভাগ্য বদলাতে গিয়ে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারালেন সেই প্রবাসী যুবক।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ দাস গত সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

শুভর পরিবার জানায়, বাড়ি বিক্রির পর তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। শুভ প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পাঠাতেন। সেই টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ ও ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ চলত। তবে গত দুই মাস তিনি টাকা পাঠাতে পারেননি।

নিহতের বাবা সুরঞ্জন দাস ভ্যানচালক। তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। এসএসসি পাসের পর শুভ দেশে ট্রলি চালাতেন। পরে সংসারের হাল ফেরাতে লেবাননে যান। সেখানে একটি বাড়ি ও বাগান দেখাশোনার কাজ করতেন।

ছোট বোন সাধনা দাস জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তারা শুভর মৃত্যুর খবর পান। রবিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মা শিখা রানী দাস বলেন, সংসারের উন্নতির আশায় ছেলেকে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। কিছুদিন পর দেশে এনে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এখন তারা শুধু দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরত চান।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, শুভ দাসের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, লেবাননে নিহত তিন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।