শিরোনাম

কেন্দ্রের ভুলে শঙ্কায় ২৫ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

কেন্দ্রের ভুলে শঙ্কায় ২৫ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে বসা নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে তারা বুঝতে পারেন যে, তাদের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্রসচিব এবং ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জানান। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কলেজ প্রাঙ্গণে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে।

জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে তারা বুঝতে পারেননি যে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানতে পেরে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাদের আশঙ্কা, এ ভুলের কারণে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতে পারে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা বোর্ডের দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রসচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কলেজ প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ওসি মশিউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের দায় কেন্দ্রসচিবের। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানোর কথা এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করারও নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর