শিরোনাম

বরিশালে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের দুর্নীতি তদন্তে আদালতের স্ব প্রণোদিত নির্দেশ

বরিশালে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের দুর্নীতি তদন্তে আদালতের স্ব প্রণোদিত নির্দেশ

বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় অবস্থিত ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ-এর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ এ আদেশ দেন।

আদালত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার নিচে নন, এমন একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে কি না, আদায়কৃত অর্থে আর্থিক বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, কতজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত—তা তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর কোনো কর্মকর্তা এ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে একটি টেলিভিশন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের বিএসসি নার্সিং কোর্সের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকারি হাসপাতালে প্রশিক্ষণের নামে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে টাকা ফেরতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, অনশন ও শিক্ষকদের অবরুদ্ধ কর্মসূচি পালন করেন।

তবে কলেজের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, আদায়কৃত অর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের নামে অর্থ নেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৪০৬ ও ৪২০ ধারা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর