যৌতুকের বলি হলেন নীলফামারীর এক গৃহবধূ। স্বামীর ছুড়ে দেওয়া পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বীথি আক্তার (২৫)।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত বীথি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে। শনিবার (১৭ মে) বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে একই উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম চেল্লুর ছেলে সাজু খান-এর সঙ্গে বীথির বিয়ে হয়। তাদের আব্দুর রহমান নামে তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পেশায় মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর মেকানিক সাজু স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নীলফামারী শহরের গাছবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৯ মে রাত ৮টার দিকে সাজু খান স্ত্রী বীথির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ভাড়া বাসার গেটে তালা লাগিয়ে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। প্রতিবেশীদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বীথিকে উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী সদর হাসপাতাল, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানা-এ মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। পরে তিনি গোপনে এক বন্ধুর মাধ্যমে শিশু সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহতের মা মাদুসা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আর্থিক সহযোগিতা করার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। তিনি মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।