নরসিংদীর রায়পুরা পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পাঁচ বছর পর পুনরায় কাজ শুরু করতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং পৌর প্রশাসক মাসুদ রানার হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা প্রকল্পটির কাজ আবারও শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউআইডিপি)-২’-এর অধীনে রায়পুরা পৌরসভার রেলগেট থেকে শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২৪৫ মিটার এবং অহিদ কমিশনার সাজ্জাতের বাড়ি থেকে নবিয়াবাদ পর্যন্ত ৩১১ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার আইডি ৫২৮৪৮৮ ও প্যাকেজ নম্বর IUIDP-2/RAI/P-08-এর বিপরীতে প্রকল্পটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টাকা।
২০২১ সালের ১০ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, একটি সড়কের কাজ সম্পন্ন হলেও রেলগেট থেকে শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কে শুধু দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে বাকি কাজ ফেলে রাখা হয়। এরপর ঠিকাদার, তৎকালীন মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বিল উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ সালে স্থানীয় এক ব্যক্তি গ্রামবাসীর পক্ষে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন এবং অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় মেসার্স মহিমা এন্টারপ্রাইজ। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ঠিকাদার দানা মিয়ার কাছে কাজ হস্তান্তর করে। অভিযোগ রয়েছে, দানা মিয়া একটি সড়কের কাজ সম্পন্ন করলেও অন্যটির কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় সড়কের দুই পাশের গাইডওয়ালে শ্যাওলা জমেছে। বর্ষা মৌসুমে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। একই সড়কের পাশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বড় ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় লাগে। পাঁচ বছর আগে কাজ শুরু হলেও এতদিন প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার দানা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “এটি আমার কাজ নয়। বর্তমানে হান্নান মোল্লা নামে একজন ঠিকাদার কাজটি করছেন।”
তবে পৌর প্রকৌশলী রুবেল সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “কাজটি যেহেতু আবার শুরু হয়েছে, আগে শেষ হোক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।”
রায়পুরা পৌরসভার প্রশাসক মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। পরে সংসদ সদস্য মহোদয়কে জানানো হলে ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছি। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঠিকাদার অগ্রিম টাকা উত্তোলন করেছিলেন, যা নিয়মসিদ্ধ নয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ বছর পরও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”