শিরোনাম

দেবীগঞ্জে রোগীর স্বজন বাইরে থেকে ‘প্যাকেজ’ কেনায় নার্সকে মারধরের অভিযোগ

দেবীগঞ্জে রোগীর স্বজন বাইরে থেকে ‘প্যাকেজ’ কেনায় নার্সকে মারধরের অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে রোগীর স্বজন ক্লিনিকের বাইরে থেকে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনায় এক নার্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ক্লিনিকের রিসেপশন ফ্লোরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নার্স কলি রায়।

কলি রায় জানান, গত ২০ জুলাই তিনি দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নার্স হিসেবে যোগ দেন। রোববার সকালে কুলসুম নামে এক নারী ক্লিনিকে ভর্তি হন। দুপুর ১২টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর নবজাতকের জন্য ডায়াপার ও কে-ওয়ান ইনজেকশন এবং প্রসূতির জন্য বেল্ট, ব্যথানাশক ভলটালিন ইনজেকশন ও ন্যাপকিনের প্রয়োজন হয়। এসব সামগ্রী ক্লিনিকে ‘প্যাকেজ’ নামে পরিচিত বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এসব সামগ্রী বাইরে থেকে তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকলেও রোগীর স্বজনদের ক্লিনিক থেকেই ‘প্যাকেজ’ কেনার জন্য নার্সদের ওপর চাপ দেওয়া হয়।

কলি রায় বলেন, রোববার কুলসুমের স্বজনেরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিক পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুল তার সঙ্গে রাগারাগি করেন। কেন রোগীর স্বজনেরা বাইরে থেকে ‘প্যাকেজ’ কিনেছেন, তা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল তার মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কলি আরও জানান, পরে তিনি ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় গেলে সেখানে বাবুলের মেয়ে স্নেহা ও চিকিৎসক ডা. শিখা মনি তার সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে পরদিন থেকে ক্লিনিকে না আসতেও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তখন তিনি পাওনা বেতন পরিশোধ করে দিলে চাকরি ছেড়ে দেবেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ভুক্তভোগী নার্সকে আইনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ক্লিনিকের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো দায়িত্ব রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।

এদিকে, এর আগেও ক্লিনিকটির মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল ও তার মেয়ে ডা. শিখা মনির রূঢ় আচরণের কারণে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকজন নার্স চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর