জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যের বাণী ও ধর্মীয় সম্প্রীতির আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতির-নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, ঢাকার যৌথ আয়োজনে এবং বসুরহাট পাঠাগারের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, কবি ও কথাসাহিত্যিক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম, চট্টগ্রাম কাজী নজরুল সংগীত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী গোলামুর রহমান রোমেল এবং বসুরহাট পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক গোলাম কিবরিয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি ক্লাবের সভাপতি ও রাজনীতিবিদ আব্দুল হাই সেলিম, চৌধুরীহাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাইফুল্লাহ সোহাগ এবং বসুরহাট পাঠাগারের প্রধান উদ্যোক্তা শাহাদাত সোহাগ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বসুরহাট পাঠাগারের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক রাইসা ভূঁঞা স্বাগত বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নজরুল তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তাচেতনায় সাম্য, মানবতা ও ধর্মীয় সহনশীলতার যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, বর্তমান সময়ে তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নজরুলের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা নজরুলের সাম্যের বাণী “গাহি সাম্যের গান—মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান” স্মরণ করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় কবির কালজয়ী গান, কবিতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাভিত্তিক পরিবেশনা নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীরা নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।