পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক উসমান গনীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আটোয়ারী থানা পুলিশ। উসমান গনী মির্জাপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টপাড়া এলাকার জয়নুদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে ‘ঝটিকা মিছিল’ আয়োজন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের অভিযোগে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। এসব মামলায় উসমান গনীসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোররাত ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকায় গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে এবং একই দিন রাত ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের আর্ট গ্যালারি সিঙ্গার শোরুমের সামনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
প্রথম মামলাটি করেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেমান গনি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এ মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রয়েল বড়ুয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উসমান গনি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেন ওরফে রাব্বি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক ও সহসভাপতি মো. খাইরুল ইসলামসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
একই ঘটনায় দ্বিতীয় মামলাটি করেন এসআই মনিরুজ্জামান। এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জনমনে ভীতি সৃষ্টি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টের উদ্দেশ্যে গভীর রাতে গোপনে জড়ো হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিয়ার রহমান বলেন, উসমান গনীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটোয়ারী থানায় দায়ের করা আগের একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।