সাতক্ষীরায় কুষ্ঠরোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জেলার চার উপজেলায় ৪১ জন নতুন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত কয়েক বছরেও জেলায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে তা উল্লেখযোগ্য।
শনিবার সাতক্ষীরা শহরের একটি কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশনে এ তথ্য জানায় খ্রিষ্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস)।
সিএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সাতক্ষীরায় দুইজন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হন। ২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ২০২১ সালে ২৯ জন, ২০২২ সালে ৫০ জন, ২০২৩ সালে ৪৯ জন, ২০২৪ সালে ৬৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৬০ জন রোগী শনাক্ত হন। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে ৪১ জন শনাক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে জেলার চার উপজেলায় ৪০ জন কুষ্ঠরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কালীগঞ্জে ১৬ জন, আশাশুনিতে ১৪ জন, সাতক্ষীরা সদরে ছয়জন এবং শ্যামনগরে চারজন রয়েছেন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে একজনের চিকিৎসা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
সিএসএসের পরিচালক (স্বাস্থ্য) সাজ্জাদুর রহিম পান্থ বলেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে সমাজে এখনো নানা ধরনের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে এ রোগকে পাপ বা অভিশাপের ফল মনে করেন। এসব ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন।
তিনি বলেন, কুষ্ঠ একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। শুরুতেই রোগ শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তবে চিকিৎসা নিতে দেরি হলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সাজ্জাদুর রহিম পান্থ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, ২০১৩ সাল থেকে সিএসএস বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। মাঠপর্যায়ে এখনো নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় এ বিষয়ে জনসচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অনুভূতিহীন বা অনুভূতি কমে যাওয়া দাগ, হাত-পায়ের দুর্বলতা এবং স্নায়ুজনিত সমস্যা কুষ্ঠরোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।