রংপুর ব্যুরো:
রাজস্বকরণ সম্পন্ন এবং বকেয়া সম্মানি পরিশোধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের জরুরি চিকিৎসা, ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষা, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
ওসিসির কম্পিউটার অপারেটর বিপুল চন্দ্র রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্বকরণ ও বকেয়া সম্মানি পরিশোধের দাবি জানানো হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকে কার্যকর কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, "আমরা মাত্র ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রকল্পভিত্তিক চাকরির কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অথচ একই ইউনিটে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও পুলিশ সদস্যরা সরকারি সব সুবিধা পাচ্ছেন। বৈষম্য দূর করতেই কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।"
শুধু রংপুর নয়, দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিগুলোতেও একই কর্মসূচি পালিত হওয়ায় নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০০-০১ অর্থবছরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টোরাল প্রোগ্রাম চালু হয়। এর আওতায় পরিচালিত ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারগুলোতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষা, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনসহ সমন্বিত সেবা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৩ সালে প্রোগ্রামটির প্রায় ৮০ শতাংশ রাজস্বকরণ সম্পন্ন হলেও অবশিষ্ট অংশ এখনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। রাজস্বকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানি প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সম্মানি, অফিস পরিচালনা ব্যয় এবং রাজস্বকরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বেতন-ভাতা না পেয়ে কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের আশঙ্কা, কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষা বন্ধ বা ধীরগতির হওয়ায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও শিশুরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।
এ অবস্থায় দ্রুত রাজস্বকরণ সম্পন্ন, বকেয়া সম্মানি পরিশোধ এবং সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।