সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের নিচতলা থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। এ সময় ওই ভবন থেকে বোমা তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল, গানপাউডার ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন ভবনটি ঘিরে অভিযান শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও সাভার মডেল থানা পুলিশ। পরে ভবনের নিচতলা থেকে বেশ কিছু বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটকের কথা জানান সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই ভবনে অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।
রাত ১১টার পর উদ্ধার করা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করেন সিটিটিসির সদস্যরা। প্রায় ২০ মিনিট পরপর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একে একে পাঁচটি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
পুলিশ অভিযান শেষে রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উদ্ধার করা বোমা তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল, গানপাউডার ও বোমাসদৃশ বস্তু জব্দ করে ঢাকায় নিয়ে যায় সিটিটিসি।
ভবন মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামে এক যুবক গত ২ আগস্ট বাসা ভাড়া নিতে আসেন। শুরুতে ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিতে রাজি না হলেও ওই যুবক স্বামী-স্ত্রী থাকবেন বলে জানালে তাকে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। তবে এরপর থেকে ওই যুবক নিয়মিত বাসায় থাকতেন না। একদিন এসে শুধু একটি ফ্যান লাগিয়ে দিয়ে যান।
ইলমা বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ পুলিশ এসে ভবনটি ঘিরে ফেলে। পরে অভিযান চালিয়ে নিচতলা থেকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকার রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা এবং বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা থাকায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতকারীরা সেখানে আস্তানা গেড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।