সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সংবাদ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনীহা ও বিভিন্ন সময় অসহযোগিতার অভিযোগে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব। অভিযোগগুলোর বিষয়ে শুক্রবার সকালে প্রেসক্লাবে জরুরি সভা করে প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটি।
সভায় জেলা প্রশাসকের আচরণকে ‘অপেশাদার ও অসহযোগিতামূলক’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম।
সভায় যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কলারোয়া ভূমি অফিসের একটি মামলা নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে তথ্য না পেয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে পলাতক হত্যা মামলার এক আসামি কীভাবে ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হন বলে দাবি করেন তিনি।
আকরামুল ইসলামের অভিযোগ, এ সময় তাকে ভর্ৎসনা করা হয় এবং এর আগে সরকারি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তার করা প্রতিবেদন নিয়েও জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে যমুনা টেলিভিশনে তার চাকরি নিয়েও ‘দেখে নেওয়ার’ কথা বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান বলেন, গত ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল এলাকার দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি জানতে গেলে সাংবাদিকদেরই ভর্ৎসনা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন অভিযোগ করেন, সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হন। সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া তার কাজ নয়—এমন মন্তব্য করে ফোন রেখে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মাইটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ করেন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, “জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ করতে গিয়ে অতীতের কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাংবাদিকরা এমন অসহযোগিতা পাননি। জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। সুশাসন ও জবাবদিহিতার স্বার্থে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।”
সভা থেকে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এদিকে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহারসামগ্রী দেওয়ার একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ কয়েকজন নেতা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, “মঞ্চে কাউকে না ডাকায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে আমরা সবাই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে আসি।”
তবে সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।