তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ৪৪৭ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তাঁদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ২৫ জনকে দুই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার মতো নীলফামারীতেও এ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীতে এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ হাজার ৪৩৭ জন আবেদন করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর শনিবার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান ৪৪৭ জন। সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক আবেদন পড়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান। তিনি পরীক্ষার পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নীলফামারীর উপপরিচালক মো. দিলগীর আলম, সহকারী পরিচালক হাসান আলী, প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ছবি রানীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা ছাড়া বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে টিকে থাকা কঠিন। শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তরুণদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নীলফামারীর উপপরিচালক মো. দিলগীর আলম বলেন, তরুণদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। আবেদনকারীর সংখ্যা তারই প্রমাণ। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীরা দুই মাসের প্রশিক্ষণে এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ছবি রানী বলেন, এআই বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের ধরন পরিবর্তন করছে। তাই তরুণদের প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের কাজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
পরীক্ষার্থী নোশিন আনজুম বলেন, এআই সম্পর্কে শেখার আগ্রহ থেকেই তিনি প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। এআই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজে তা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
দিনব্যাপী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।