প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যোগ্য শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড গত ৬ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমান কিংবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও এ সুযোগ পাবেন। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীর বাবা অথবা মাকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ
বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক জিপিএ নির্ধারণ করেছে বোর্ড। যোগ্যতার শর্তগুলো হলো—
এসএসসি ও সমমান-২০২৬
-
বিজ্ঞান বিভাগ: সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জিপিএ-৪।
-
মানবিক বিভাগ: সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৪.৭৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জিপিএ-৪।
-
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৪ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জিপিএ-৪।
এইচএসসি ও সমমান-২০২৫
-
বিজ্ঞান বিভাগ: সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৪.৮০।
-
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৪.৫০।
-
প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে সব বিভাগের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪।
ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-২০২৫
-
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৩.২৫।
-
প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ন্যূনতম জিপিএ-৩।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সময় প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ছবি, স্বাক্ষর এবং জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। প্রত্যয়নপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থীর নিজের নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য হবে না।
কত বছর পাওয়া যাবে বৃত্তি
শিক্ষার স্তর ও কোর্স অনুযায়ী বৃত্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর বৃত্তি দেওয়া হবে। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে অধ্যয়নরতদের ক্ষেত্রে বৃত্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর।
এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে তিন বছর এবং স্নাতক পর্যায়ে চার বছর বৃত্তি দেওয়া হবে। এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম, বি.আর্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কোর্সে বৃত্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। অন্যদিকে, ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং উত্তীর্ণ হয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা চার বছর পর্যন্ত বৃত্তি পাবেন।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইটে (portal.wewb.gov.bd) প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি কিংবা ডাকযোগে পাঠানো কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সনদে উল্লেখ করা বাবা বা মায়ের নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া অসম্পূর্ণ আবেদন এবং ভুল তথ্যসংবলিত আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
বৃত্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে প্রবাসী কল সেন্টারের ১৬১৩৫ নম্বরে (দেশ থেকে, টোল ফ্রি) অথবা +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ নম্বরে (বিদেশ থেকে) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।