রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মুহম্মদ রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একটি সচল প্লাইউড কারখানা বন্ধের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে এবং কারখানা চালুর দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়ক অবরোধ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন আহমেদ প্লাইউড ফ্যাক্টরির শত শত শ্রমিক।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের একটি বিশেষ দল সৈয়দপুরের আহমেদ প্লাইউড ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, অভিযানের পর কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে শতকোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভ্যাট ফাঁকির মামলা দিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি।
এ ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জেলা পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ঘুষের দাবি না মানায় কারখানাটি বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় তাঁরা কর্মস্থল ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন। সড়ক ও রেলপথের সংযোগস্থলে অবস্থান নিয়ে অনশন ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীরা অভিযুক্ত কাস্টমস কমিশনারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কারখানাটি চালু রাখার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, কারখানাটি বন্ধ হলে শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক সংকটে পড়বেন।
এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সৈয়দপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রংপুরের সঙ্গে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের সড়ক যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মুহম্মদ রাশেদুল আলমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।