মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় নকআউট পদ্ধতিতে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল। জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন দল পরবর্তী সময়ে রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে।
বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সায়েম।
‘মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের ৬৪ জেলায় চার ধাপে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড়েও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, কিশোর অপরাধ, মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোর মাধ্যমে শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
পঞ্চগড়ে ছয়টি দল নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। জেলা পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে খেলবে। বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা দল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড় রাজু বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ব্যস্ত ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা গেলে মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব। পুলিশের এ উদ্যোগ তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরেক খেলোয়াড় আরিফ হাসান বলেন, কাবাডি আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সায়েম বলেন, দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে তরুণদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা খুঁজে বের করে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আইজি স্যারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।