সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ নগরীর গণপূর্ত ভবনের সামনে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশ শেষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের অস্থায়ী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তি, দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীদের অস্থায়ী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আনা এবং স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. নাজমুল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা মোসাদ্দেক হোসেন স্বাক্ষর করেন। এর অনুলিপি ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের অস্থায়ী নিয়মিতকরণের বিষয়ে ৬৩২ ও ৮৯৩ জন কর্মচারীসংক্রান্ত দুটি ফাইল সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ শাখার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতকরণ না হওয়ায় কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের অনেকেই মারা গেছেন এবং অনেকে বয়সজনিত কারণে অবসর নিয়েছেন। অবসর ও মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছেন। সরকারি বাসায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বাসা ছাড়তে হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
কর্মচারী নেতাদের ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থায়ী সেটআপ না থাকায় কার্যভিত্তিক কর্মচারীরা পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের অস্থায়ী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকলেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মচারীকে এখনো নিয়মিত করে পেনশনের আওতায় আনা হয়নি।
তারা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ রায়ের পর আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রবিধি শাখা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মচারীর পক্ষে মতামত দিয়েছে। এরপরও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ শাখা, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, কার্যভিত্তিক ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ, স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়ন এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মচারীকে দ্রুত নিয়মিত করে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।