শিরোনাম

নগরকুমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নগরকুমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নগরকুমারী পশুর হাটে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হাসিল আদায়ের অভিযোগে ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে রশিদে আদায়ের পরিমাণ উল্লেখ না করার বিষয়টিও অভিযানে ধরা পড়ে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরকুমারী পশুর হাটে সরকারি নিয়ম অমান্য করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দেখা যায়, ক্রেতাদের দেওয়া রশিদে হাসিলের পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে না।

অভিযানে আরও জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতি গরুর হাসিল ৪০০ টাকা হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা নিয়ে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, ছাগলের জন্য ১৫০ টাকা হাসিল নির্ধারিত থাকলেও নেওয়া হচ্ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনে ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা স্থানীয় খামারি করিমুল হক বলেন, “আমরা কষ্ট করে গরু পালন করি। হাটে নিয়ে এলে ইজারাদারের লোকজনের দাপটে কথা বলা যায় না। রশিদে টাকার অঙ্ক না লিখে ৪০০ টাকার জায়গায় ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করলে গরু হাট থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আজকের জরিমানায় আমরা সাধারণ বিক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।”

পঞ্চগড় থেকে মিলাদের জন্য ছাগল কিনতে আসা সোহেল রানা বলেন, “আমি দুটি ছাগল কিনেছি। আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা করে মোট ৪০০ টাকা হাসিল নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হয়নি। লেখাইয়ের জায়গায় কোনো মূল্য তালিকাও ছিল না। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জানতে পারি, ছাগলের হাসিল ১৫০ টাকা নির্ধারিত।”

দিনাজপুর থেকে গরু কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, “প্রতিটি গরুতে ১০০ টাকা বেশি নেওয়া আমাদের জন্য বড় লোকসান। তার ওপর রশিদে কোনো টাকার পরিমাণ লেখা থাকে না। প্রশাসনকে ধন্যবাদ, তারা হাতেনাতে ধরে জরিমানা করেছে। তবে এ ধরনের নজরদারি নিয়মিত থাকা দরকার।”

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা অপরাধ। জনস্বার্থে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ম বন্ধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর