শিরোনাম

সাতক্ষীরায় অসময়ের তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা

সাতক্ষীরায় অসময়ের তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা

মালচিং পদ্ধতিতে ৬৫ দিনে ফলন, বিঘায় লাভ দেড় লাখ টাকা।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বর্ষাকালেও তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকরা। চিংড়িঘেরের আইল, পতিত ও অনাবাদি জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন জাতের অসময়ের তরমুজ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবুজ বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ কৃষক ও ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১০৮ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় ফলন ভালো হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন দেখা মিলছে হলুদ ও সবুজ তরমুজের সমারোহ।

তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিন গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় প্রায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

চাষিরা জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা, জালসহ বিভিন্ন খাতে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমি থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলার সুযোগ থাকায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষের সম্ভাবনাও দেখছেন কৃষকরা।

তালা উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান বলেন, প্রচলিত অনেক ফসলের তুলনায় তরমুজে দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর ভালো থাকলে লাভও বেশি হয়। তাই আগামীতে তরমুজের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সাতক্ষীরা খামারবাড়ির কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব জমিতে তরমুজ চাষের সুযোগ রয়েছে। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকের জন্য সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে।

তিনি বলেন, ভালো ফলনের জন্য উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, জমিতে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করলে অসময়ের তরমুজের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’র কৃষিবিদ নয়ন হোসেন বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও পরিবেশ অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে ফলন পাওয়া সম্ভব। শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকে শুধু পেশা হিসেবে না দেখে উদ্যোক্তা হিসেবে গ্রহণ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার পতিত ও অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং উৎপাদিত তরমুজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় এ চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি উপকূলীয় কৃষিতে যুক্ত হবে নতুন একটি লাভজনক ফসল।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর