পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করা এক গৃহবধূকে ঘরে ঢুকে মারধর, দাঁত ভেঙে দেওয়া, ব্লেড দিয়ে চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহারে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কনিকা রায় গত ১২ জুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম নেন। পরে দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মান্তর ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনার রাতে লাঠি ও লোহার রডসহ ওই দম্পতির ঘরে প্রবেশ করেন। তারা কুলসুমের ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাঁর ব্যবহৃত স্মার্টফোন নিয়ে নেন।
একপর্যায়ে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তাঁর মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। এরপর হাত-পা চেপে ধরে যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ সময় কুলসুমের স্বামী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। হামলাকারীরা ঘরের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম নিয়ে যায় বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরে প্রতিবেশীরা তাঁদের চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।