সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর খবরের পর শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘শ্যামনগর উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে উপজেলা সদরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রথমে জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ ও আগুন দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নুরনগর পাবলিক লাইব্রেরির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ, ভুরুলিয়া সমবায় ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবুল কালাম মোড়ল, তরুণ সমাজসেবক রেজাউল ইসলাম, আজু মোল্লা ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান বাবুসহ অনেকে।
বক্তারা মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলামকে দায়ী করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারও অপরাধমূলক দায় রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।