স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করা সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী রোববার (২৬ জুলাই) সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন। পরিবারের একটি সূত্র শুক্রবার (২৪ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বঙ্গভবন ছাড়ার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অব্যাহতির পর মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে বসবাস করবেন।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্পিকার জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তাঁর স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে নিজেকে অসমর্থ মনে করেন। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রেও রাষ্ট্রপতি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার উত্থাপিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।