বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন, প্রতারণা, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পর ২৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধূ। একই সঙ্গে তাঁকে ও তাঁর দুই সন্তানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
শনিবার স্থানীয় সংবাদ সম্মেলন কক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ফকিরহাট উপজেলার ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ মারিয়া বেগম একতা। অভিযুক্ত শিক্ষক দেবাশীষ বসু (অটল), যিনি ধর্ম পরিবর্তনের পর ‘মুহাম্মদ আলী’ নাম গ্রহণ করেছেন বলে ওই নারী দাবি করেন। তিনি ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের কাঠালতলা কাজী আজাহার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
লিখিত বক্তব্যে মারিয়া বেগম দাবি করেন, কয়েক বছর আগে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেবাশীষ বসু তাঁদের বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নেন। এরপর থেকেই তিনি তাঁকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখাতেন। একপর্যায়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
মারিয়ার ভাষ্য, পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সম্পর্কের মধ্যে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে আগের স্বামী শের আলীর সঙ্গে বিচ্ছেদে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর তিনবার গর্ভপাত করান এবং কৌশলে জমির দলিল নিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো নথিপত্র বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মারিয়া জানান, পরবর্তীতে দেবাশীষ বসু আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট ও কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘মুহাম্মদ আলী’ নাম ধারণ করে তাঁকে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন।
তবে বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন মারিয়া। তাঁর দাবি, তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে জমি বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে তাঁকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিলে তাঁকে ও তাঁর দুই সন্তানকে গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া বলেন, তিনি স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও নিরাপদভাবে সংসার করার সুযোগ চান। একই সঙ্গে তাঁর ও সন্তানদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক দেবাশীষ বসু ওরফে মুহাম্মদ আলীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
ভুক্তভোগী নারী প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বিভাগের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।