মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় কর্মী হিসেবে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের প্রতারণা এড়াতে যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রবাস-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। তাদের মতে, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা যাচাই করে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে একটি সরকারি কোটার নথি (পিডিএফ) প্রকাশ করা হয়। এই নথি যাচাই করেই চাকরিপ্রার্থীকে কোম্পানির বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সরকারি অনুমোদনের কাগজ না দেখে কোনো ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুমোদনের কাগজ যাচাইয়ের পর মেডিকেল পরীক্ষা ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, কলিং ভিসার ক্ষেত্রে মেডিকেল পরীক্ষায় সাধারণত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জামানত হিসেবে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিতে পারে। এরপর মালয়েশিয়া সরকারের ভিসা অনুমোদন, বিএমইটি (BMET) নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ এবং ঢাকায় মালয়েশিয়া হাইকমিশন থেকে ভিসা ইস্যুর পর বিমান টিকিট দেওয়ার সময় বাকি অর্থ পরিশোধের প্রচলিত প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এ ধরনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে প্রতারণার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা এবং মালয়েশিয়ার সরকারি অনুমোদনপত্র যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ তথ্যগুলোর কোনো অংশ মালয়েশিয়া বা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি এবং লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।