শিরোনাম
সভাপতি মেয়ে, প্রতিষ্ঠান চালান বাবা

মিরপুরের হাজী আলী হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘একক নিয়ন্ত্রণের’ অভিযোগ

মিরপুরের হাজী আলী হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘একক নিয়ন্ত্রণের’ অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুর-১৩-এর হাজী আলী হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মান নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামো নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সভাপতি হিসেবে ফাকেহা আক্তারের নাম থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যত তাঁর বাবা সাইফুল ইসলামই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার ও পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন।

প্রশ্ন উঠছে, সভাপতি যখন একজন, তখন প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর বাবার ভূমিকার সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক ভিত্তি কী? প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভার কার্যবিবরণী, সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি এবং আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র যাচাই করলেই এ প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

‘স্কুলের ভেতরেই থাকেন প্রধান শিক্ষক’

প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে বসবাস করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের জায়গা আবাসিক ব্যবহারের জন্য তাঁকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, বিদ্যুৎ-পানি বিল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যয় কে বহন করছে—এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা কতটা?

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ধরন ও পরিমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানের গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক হিসাব, বেতন-ভাতা, ভর্তি ও বিভিন্ন ফি থেকে আদায় করা অর্থ, ক্রয়সংক্রান্ত বিল-ভাউচার এবং অডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন হলো—প্রতিষ্ঠানের অর্থ কোন ব্যাংক হিসাবে জমা হয়? কে বা কারা সেই হিসাব পরিচালনা করেন? পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় হয়েছে কি না? নিয়মিত অডিট হয়েছে কি না?

এসব নথিই পারে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা কিংবা খণ্ডন করতে।

৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ মাত্র ২, ফেল ৩৮

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ৯৮জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে ৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।


শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অভিযোগ

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করেন।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতার বক্তব্য

স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব দেওয়ান অভিযোগগুলোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ধরন নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। তাঁর দাবি, নিজের যোগ্যতা না থাকায় মেয়েকে সভাপতি করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর