নীলফামারীতে রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও জনমনে অসন্তোষের মধ্যে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডোমার জোনাল অফিস।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ গত ১১ আগস্ট রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময় গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য ডোমার জোনাল অফিসের আওতাধীন ডোমার জোনাল অফিস, উপকেন্দ্র-১ (আন্ধারুর মোড়) এবং চিলাহাটি অভিযোগ কেন্দ্রে রাতে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডোমার জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এ কে এম আলাউদ্দিন লিখিত আবেদন করেছেন। সাদা পোশাকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের স্থাপনাগুলোতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। পাশাপাশি পুলিশের টহলও অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। নীলফামারীর বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার নেসকো সাবস্টেশনের আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন বলেন, দিনে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২ মেগাওয়াট থাকলেও রাতে তা প্রায় ১ মেগাওয়াট বেড়ে যায়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই রাতে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ বিভাগের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন এবং গ্রাহকদের ক্ষোভ—দুটিই নীলফামারীতে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।