সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে এক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে মব সৃষ্টি করে সামাজিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মোল্লার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, স্থানীয় মানুষের সন্দেহের কারণে ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছিল, এর বেশি কিছু নয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় চোমরখালী গ্রামের মনিরুজ্জামান মনিকে রাস্তা থেকে ডেকে কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের একটি ধানের চাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিভিন্ন কথা বলাতে বাধ্য করা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত না থাকলেও পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, মনিরুজ্জামানকে জোরপূর্বক কিছু কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি পরকীয়ার অভিযোগ সত্য হতো, তাহলে সংশ্লিষ্ট নারীর উপস্থিতি বা কোনো প্রমাণ কেন ছিল না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার দাবি করা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ওই সময় সেখানে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
চোমরখালী গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ খা অভিযোগ করেন, সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমানকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে তাঁর ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতাও মনিরুজ্জামানের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মোল্লা। তিনি বলেন, "মনিরুজ্জামানকে আমার ধানের চাতালে এনে শুধু ভবিষ্যতে ওই এলাকায় না আসার জন্য বলতে বলা হয়েছিল। স্থানীয় মানুষের সন্দেহ থেকেই বিষয়টি ঘটেছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান হয়ে যায়। ভিডিও কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"
তিনি আরও বলেন, "মনিরুজ্জামান আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাই তাকে শাসন করার অধিকার আমার আছে বলে মনে করেছি।"
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। তবে পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে বলে জানতে পারেন। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।