শিরোনাম

১৮ মাসের মেয়েকে রেখে নোয়াখালীতে সামরিক মর্যাদায় পিয়াসের দাফন

১৮ মাসের মেয়েকে রেখে নোয়াখালীতে সামরিক মর্যাদায় পিয়াসের দাফন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের দাফন নোয়াখালীর কবিরহাটে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা, গার্ড অব অনার ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে পিয়াসের মরদেহ নোয়াখালীর মাইজদী শহীদ বুলু স্টেডিয়ামে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো মরদেহ দেখানোর পর মালিপাড়া গ্রামের মুন্সী সর্দার বাড়ির সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

জানাজার সময় একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পিয়াসের বাবা আব্দুল ওহাব ও মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বামীকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রীও। মাত্র ১৮ মাস বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তানকে রেখে চিরবিদায় নেন তরুণ এই সেনাসদস্য।

নিহত আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র ভাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন পিয়াস। ২০২৩ সালে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে রয়েছে ১৮ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান।

স্বজনেরা জানান, ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন পিয়াস। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। তাঁর সহজ-সরল আচরণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

পিয়াসের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ বলেন, “পিয়াস ছিল চার বোনের একমাত্র ছোট ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত ও সহজ-সরল স্বভাবের ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। তার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অমায়িক। এ কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও সে খুবই প্রিয় ছিল।”

দেশের সেবায় নিয়োজিত তরুণ এই সেনাসদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবাসহ স্বজনেরা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর