শিরোনাম

শাহজালালের এয়ারফ্রেইটে বড় অভিযান: ৫,৫০০ ডলারের ঘোষণা, পণ্য মিলল ২ কোটি টাকার

শাহজালালের এয়ারফ্রেইটে বড় অভিযান: ৫,৫০০ ডলারের ঘোষণা, পণ্য মিলল ২ কোটি টাকার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) অভিযানে একই আমদানিকারকের দুটি চালান থেকে ১ হাজার ১৬৭টি ল্যাপটপ ও ১০০টি ট্যাব-আইপ্যাডসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। চালান দুটিতে অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা, পণ্যের পরিমাণে অসামঞ্জস্য, মিথ্যা ঘোষণা এবং ব্যবহৃত ল্যাপটপ আমদানির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দারা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চালান দুটির আমদানিকারক Sardar Global Trade এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট FAHIM 5 STAR LTD

প্রথম চালানটির Airway Bill (AWB) নম্বর 997-66890751 এবং বিল অব এন্ট্রি (B/E) নম্বর 821186। ১৩ আগস্টের ওই চালানে আমদানিকারক পণ্যের মূল্য ঘোষণা করেন মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। তবে কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর এর Assessed Value নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৪ টাকা

কায়িক পরীক্ষায় ওই চালানে ৫৪৩টি HP Core i5, ১৮৭টি HP Core i3 এবং Mini PC হিসেবে ঘোষিত আরও ১০টি HP Core i5 ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ৫৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রথম চালানে ৭৪০টি ল্যাপটপ ও ৬০টি ট্যাব/আইপ্যাড পাওয়া গেছে। পরীক্ষণ প্রতিবেদনে ঘোষণার তুলনায় ৪৩টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় চালানটির AWB নম্বর 997-60500451 এবং B/E নম্বর 821108। এ চালানে ঘোষিত পণ্যের মূল্য ছিল মাত্র ২ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর Assessed Value দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ২৫৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৬ টাকা

এ চালানে ৪৬টি Core i3 ও ৩৮১টি Core i5—মোট ৪২৭টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এছাড়া ৩৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড পাওয়া গেছে। ঘোষণার তুলনায় অতিরিক্ত ৩৯টি ল্যাপটপ পাওয়ার তথ্যও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

দুই চালান মিলিয়ে আমদানিকারক পণ্যের মূল্য ঘোষণা করেছিলেন মাত্র ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সম্মিলিত Assessed Value দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৬ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যের তুলনায় মূল্যায়িত পণ্যের মূল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৫ গুণ বেশি

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ল্যাপটপের বাহ্যিক অবস্থা দেখে সেগুলো ব্যবহৃত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। পরীক্ষণ প্রতিবেদনেও এসব পণ্যকে বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আমদানি নীতি অনুযায়ী এ ধরনের ব্যবহৃত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে।

এছাড়া Capacitor, Rubber Seal O-ring, Gasket Rubber ও Fittings হিসেবে ঘোষণা করা কয়েকটি পণ্য পরীক্ষায় Car Parts হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ঘোষিত HS Code পরিবর্তনের বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট চালান দুটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে চালান দুটির কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

মিথ্যা ঘোষণা, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা, ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য, পণ্যের প্রকৃত বর্ণনা গোপন এবং সম্ভাব্য আমদানি-নিষিদ্ধ ব্যবহৃত পণ্য আমদানির অভিযোগে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও প্রযোজ্য আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুল্ক-কর ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর