শিরোনাম

কালীগঞ্জে যুবদল কর্মীদের বিরুদ্ধে যুবক অপহরণ ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

কালীগঞ্জে যুবদল কর্মীদের বিরুদ্ধে যুবক অপহরণ ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে অপহরণ করে মারধর এবং তার পকেটে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বায়েজিদ হাসান শিবলীকে তুলে নিয়ে মারধরের পর তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

বায়েজিদ হাসান শিবলী উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। ঘটনাটি গত ১০ আগস্ট দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের দালান বাজার এলাকায় ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বন্ধু আমির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে দালান বাজার এলাকায় যান বায়েজিদ। ওই সময় একটি ফার্নিচারের দোকানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ চলছিল। সেখানে বাগদী এলাকার সোহেল বায়েজিদকে ডেকে একটি গলিতে নিয়ে যান। পরে সোহেলসহ বড়গাঁও এলাকার জিয়াউল, কাপাইস এলাকার নুরচাঁন, আতাবর, আশিকসহ ৮-১০ জন তাকে মোটরসাইকেলে তুলে জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস এলাকার নির্জন একটি পূজামণ্ডপ—কুঞ্জখোলায় নিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি।

সেখানে বায়েজিদকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে মাদক বহনের অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

বায়েজিদের চাচা মো. ফারুক শেখ বলেন, বায়েজিদের মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো ঘটনা আগে ছিল না। তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে পকেটে ইয়াবা রাখা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

তিনি আরও দাবি করেন, বায়েজিদের বাবা আক্তার হোসেন প্রবাসে থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম ফজজুল হক মিলন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তার দুই ভাই রিপন ও যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম সোহেলের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এর জেরে বায়েজিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বায়েজিদের মা মনি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর ছেলেকে কখনো সিগারেট খেতেও দেখেননি। মাদকের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এলাকাবাসীও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি, মোবাইল ফোনের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং বায়েজিদকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার সময়কার পরিস্থিতি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।

তবে পুলিশের ভাষ্য ভিন্ন। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়েজিদকে ১৯ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। পরে মাদক আইনে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, বায়েজিদকে অপহরণ, মারধর এবং তার পকেটে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগের বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর