শিরোনাম

ভোলায় স্কুলের মাঠের জমি নিয়ে সংঘর্ষ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ আহত ৭

ভোলায় স্কুলের মাঠের জমি নিয়ে সংঘর্ষ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ আহত ৭

ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে একটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার, তাঁর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নাসির উদ্দিন সিকদার, ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন দুলাল, কলেজ স্টাফ জসিম উদ্দিন সিকদার এবং সেলটেক সিরামিক কোম্পানির কর্মকর্তা নুরুদ্দিন সিকদার ওরফে ওয়াসিমসহ অন্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘আব্দুল হাকিম বাঘা আদর্শ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জন্য হালিমা খাতুন নামে এক নারীর কাছ থেকে চার শতাংশ জমি কেনে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি স্থানীয় মোশারফের পক্ষ ওই জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলে। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে কাজ চালানোর অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় মানিক বাঘার উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। পরে উভয় পক্ষ চলে যাওয়ার পর আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

খায়ের উদ্দিন সিকদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মানিক বাঘা। চাঁদা না দেওয়ায় মানিক বাঘা ও তাঁর ছেলের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এতে তিনি ও তাঁর পাঁচ ভাই আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়িতে হামলার পর বিদ্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়। বিদ্যালয়ের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া এবং স্কুলে থাকা নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোশারফ বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে তাঁদের জমি রয়েছে। ওই জমি নিতে গেলে তাঁরা বাধা দেন এবং তাঁদের লোকজনের ওপর হামলা করা হয়।

সালিশের আয়োজক মানিক বাঘা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে উভয় পক্ষকে নিয়ে তিনি বৈঠকে বসেছিলেন। তবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের জমি নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর